Sunday, January 12, 2014

মসজিদে আযান-নামাজ হয়না মুসলমানদের ধর্ম-কর্ম বন্ধ : চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য

মসজিদে আযান-নামাজ হয়না মুসলমানদের ধর্ম-কর্ম বন্ধ : চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য 

গত ২৯ দিনেও নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী রামগঞ্জ বাজার এবং টুপামারী ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসেনি। এখনও কয়েকটি মসজিদে আযান দেয়া ও নামাজ আদায় হচ্ছে না। বাকী মসজিদগুলোতে আযান দেয়া ও নামাজ আদায় হলেও মুসল্লীর সংখ্যা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ জন। এলাকাবাসী জানান, পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্কে মানুষ ঘর-বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের দায়েরকৃত মামলা থেকে রেহাই পেতে ও গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে চলছে বাণিজ্য। 
ঐতিহ্যবাহী রামগঞ্জ বাজারে এখনও ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। দোকানীরা এখনও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। ক্রেতারাও আসছে না তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য। রামগঞ্জ বাজারটি শ্মশানে পরিণত হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। যে বাজারটি সবসময় হাজার-হাজার হাটুরে ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখরিত থাকতো। সেখানে এখন মানবশূন্য। গতকাল রবিবার রামগঞ্জ বাজার, টুপামারী ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভীতিকর অবস্থা। 
সাংবাদিক দেখে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। আবার বাড়ীর মহিলারা ঘর থেকে ভয়ে বের হচ্ছে না। তাদের মাঝে বিরাজ করছে গ্রেফতার আতঙ্ক। রামগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন বায়তুল ফালা জামে মসজিদ ও বায়তুল নূর জামে মসজিদ ঘটনার পর (১৪ ডিসেম্বর) থেকে অদ্যাবধি আযান বন্ধ ও নামাজ আদায় হচ্ছে না। মসিজদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপন রয়েছে। রামগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল আজিজ ও মুয়াজ্জিন ক্বারী মোসলেম উদ্দিন পালিয়ে থাকার কারণে সেখানে মুসল্ল¬ীরা আযান দিয়ে নামাজ আদায় করলেও শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় নিয়ে বিপাকে পড়েছিল মুসল্লীরা বলে জানান-রামগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন চৌধুরী। মুসল্লীদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য বলে তিনি জানান। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পূর্ব মুহূর্তে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি জামে মসজিদে গিয়ে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। তখন পর্যন্ত একজনও মসল্লি মসজিদ চত্বরে দেখা যায়নি। মুয়াজ্জিন আবুল হাসেম আযান দিয়ে বসে আসেন। তিনি জানান, গ্রেফতারের ভয়ে কেউ মসজিদে আসছেন না। জুম্মার নামাজে ৪ থেকে ৫ জন মুসল্লি হলেও অন্যান্য নামাজ তাকে একাই পড়তে হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, একই অবস্থা ডাঙ্গাপাড়া মসজিদ, কলেজপাড়া জামে মসজিদ, নিত্যানন্দী পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, নিত্যানন্দী পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের। ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা পলাতক থাকার কারণে মুসল্ল¬ীরা আযান দিচ্ছে ও নিজেরাই নামাজ আদায় করছেন। সুখধন বায়তুল ফালা জামে মসজিদের সামনে দেখা হয় রায়হান নামক এক বালকের সাথে। সে জানায় ঘটনার পর থেকে এ মসজিদে আযান ও নামাজ বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পর ফজরের নামাজ পড়তে আসা হাসান আলী নামক এক বুড়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ কারণে মসজিদে আযান ও নামাজ পড়তে আসে না কেউ। এ জন্য মসজিদটি সেদিন থেকে তালা বন্ধ রয়েছে।
ভাটিয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শিরিনা বেগম, রবিউলের স্ত্রী আরজিনা বেগম, আমানুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম জানায়, গ্রেফতারের ভয়ে গত ২৮ দিন ধরে গ্রামটি পুরুষ শূন্য। তাই মসজিদগুলোতে যেমন নামাজি নেই তেমনি পুরুষ শূন্য পরিবারগুলোতে আয় রোজগার না থাকায় হাহাকার চলছে। ওই গ্রামের রহমত আলীর স্ত্রী মমতা বেগম জানায়, রাতে ঘরের দরজায় কো বা কাহারা এসে ধাক্কা ধাক্কি করে। তাই ভয়ে সারারাত জেগে থাকি।  
ঐতিহ্যবাহী বিশাল রামগঞ্জ বাজারটি এখনও বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকান-পাট চালু রাখলেও ক্রেতার অভাব। বাজারের বেশীর ভাগ বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা কেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ভয়ে মালামাল  নিয়ে গেছে বলে জানান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, বাজারটিতে যাতে হামলা ও মালামাল লুটপাট না হয় এজন্য ৫০/৬০ জন লোক পাহারা রাখা হয়েছে। এ পাহারারত লোকজনকে প্রতিদিন পালাক্রমে ভাত খাওয়াচ্ছেন তিনি নিজে ও ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী। এদিকে বাজারে পশু হাটে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীর সমাগম ও বিকিকিনির চেষ্টা করছেন ইজারাদার প্রফেসর জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনি জানান, গত হাটে ৫/৬টি গরু, ৪/৫টি ছাগল অল্প সংখ্যক হাঁস-মুরগী হাটে উঠলেও ক্রেতা ছিলনা। তিনি জানান, ঘটনার আগে প্রতি হাটে দেড়শ’ থেকে ২শ’ গরু, প্রায় ৫শ’ ছাগল ও অসংখ্যা হাঁস-মুরগী বিক্রি হতো। এখন তা হচ্ছে না। মানুষের মাঝে এখনও ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন রাতে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার সুপার, ব্যবসায়ী, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষও রয়েছে। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে এ অঞ্চলের মসজিদ, মাদরাসার ইমাম-মুয়াজ্জিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, সুপার, শিক্ষক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রামগঞ্জ বাজার সন্নিকটে টুপামারী ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমানের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীতে শুধু তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ রয়েছে। পুরুষরা গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপন করেছে। কথা হয় পুত্রবধূ সুমির সাথে। সে দু:খ প্রকাশ করে বলেন- এলাকার কিছু লোকের হুমকির মুখে বাড়ীর পুরুষরা ভয়ে আত্মগোপন করে রয়েছে।
পুলিশের দায়েরকৃত ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ দেড়/দুই হাজার অজ্ঞাত লোককে আসামী করার ঘটনায় গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পালিয়ে ও আত্মগোপন করে থাকা ঘর-বাড়ীতে মালামাল লুটপাট, চুরি, নির্যাতন ও অনৈতিক কর্মকা-ের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আনতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী এলাকাবাসীর।
উল্লেখ্য যে, গত ১৪ ডিসেম্বর রামগঞ্জ বাজারে আওয়ামীলীগ-পুলিশের সাথে ১৮ দলের এক সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়।মসজিদে আযান-নামাজ হয়না মুসলমানদের ধর্ম-কর্ম বন্ধ : চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য

গত ২৯ দিনেও নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী রামগঞ্জ বাজার এবং টুপামারী ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসেনি। এখনও কয়েকটি মসজিদে আযান দেয়া ও নামাজ আদায় হচ্ছে না। বাকী মসজিদগুলোতে আযান দেয়া ও নামাজ আদায় হলেও মুসল্লীর সংখ্যা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ জন। এলাকাবাসী জানান, পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্কে মানুষ ঘর-বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের দায়েরকৃত মামলা থেকে রেহাই পেতে ও গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে চলছে বাণিজ্য।
ঐতিহ্যবাহী


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: